x 
Empty Product
Wednesday, 04 September 2013 07:08

আমের নাম “গৌড়মতি ”

Written by 
Rate this item
(0 votes)

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ এলাকার বালিয়াদিঘী বাজার থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বদিকে বাগানের একটি আমগাছের আম নিয়ে কৃষি বিভাগের হর্টিকালচার বিভাগ বেশ তালগোল পাকিয়েছেন। গতকাল সকালে ঐ বাগানের মধ্যে আমগাছটির নিচেই একটি কর্মশালার আয়োজন করেন কৃষি বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার দপ্তর। এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুকুল চন্দ্র রায়। সেই সাথে উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিভাগের আম গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এসএম কামরুজ্জামান সহ ডজন খানেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্টই প্রমাণ হয় ঐ আমের জাতটি আম গবেষণা কেন্দ্র বা হর্টিকালচারের কোন উদ্ভাবন নয়। আনুমানিক ২০ বছর আগে ঐ বাগানের মালিক এরফান আলী একটি ল্যাংড়া আমের আঁটি ঐ বাগানে পুতে আমগাছ তৈরী করেন। সেই সঙ্গে ঐ বাগানে ঐ গাছটির চারপাশেই রয়েছে আশ্বিনা (নাবিজাত) আমের গাছ। হর্টিকালচার বিভাগের তথ্য অনুসারে ল্যাংড়া ও আশ্বিনা এই দুই জাতের আমের মুকুলের প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে এ নতুন জাতের আমের সৃষ্টি হয়েছে। আমগাছটির আকৃতি পুরোটায় অন্যান্য ল্যাংড়া আমগাছের মতই। পাতার রং ল্যাংড়া আমের মত। ঐ এলাকার আমচাষীদের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া যায় তা থেকে স্পষ্টই যে ঐ আমগাছটি ল্যাংড়া আমের আঁটি থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। এ ধরনের আম গাছ প্রায় বিভিন্ন বাগানেই দেখা যায়। আম চাষীরা জানান, এ এলাকায় কয়েক জাতের আম রয়েছে যেগুলো মূলত এসেছে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে। ভারতের চৌষা আম বাংলাদেশে এসে হয়েছে চোরসা। যেমন ভারতের লক্ষণভোগ আম বাংলাদেশে এসে নাম হয়েছে লক্ষণা ও বোগলাগুটি। এধরনের অনেক আমই ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানী হয়ে আসার পর অনেক চাষীরাই ঐ আমের আঁটি থেকে গাছ তৈরী করে ভিন্ন জাতের নাম দিয়ে থাকে। আমচাষীরা জানায়, মাটির গুণগত কারণে একই বাগানে বিভিন্ন রকম আমের বিভিন্ন ধরনের স্বাদ হয়ে থাকে। এ আমটির আকার সম্পূর্ণ ল্যাংড়া আমের মত তবে সাইজ বা ওজন অন্যান্য ল্যাংড়ার থেকে বড় ও গোলাকার। আমের বোটার নিচের সম্মুখ ভাগে কিছুটা হালকা সিঁদুরে রং রয়েছে। এই আমের নামকরণ করা হয়েছে “গৌড়মতি ”। হর্টিকালচার বিভাগ এ আমের নাম “গৌড়মতি ” রাখলেন কেন জিজ্ঞাসা করা হলে কোন সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। কৃষি বিভাগের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, গত বছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের দিকে কৃষি অধিদপ্তরের সংগনিরোধ কীটতত্ববিদ বিভাগের একজন উ”চ পর্যায়ের কর্মকর্তা সোনামসজিদে তাদের অফিস পরিদর্শনে এসে বাজার থেকে এ আম কিনে নিয়ে যায় ঢাকা। খাওয়ার পরই আমটি সুস্বাদু বলে প্রচার করে কৃষি বিভাগের মধ্যে এবং এ গাছের আদ্যপ্রান্ত সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয় হর্টিকালচার বিভাগকে। ঐ নির্দেশের পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এসএম কামরুজ্জামান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচারের প্রধান কর্তাব্যক্তি ঐ আমের জাতকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রচার করার জন্য তৎপর হয়ে উঠে। মূলত গত ১৮/০৯/২০১২ তারিখে ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হয় “অসময়ে ল্যাংড়া আম ৩শ’ টাকা কেজি ” এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর হর্টিকালচার বিভাগ আরো উৎসাহিত হন। কিš‘ প্রকৃত তথ্য না নিয়ে ঐ আমকে নিয়ে তোড়জোর সৃষ্টি করেন হর্টিকালচার বিভাগ। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা জানান, আমের কোন জাতকে বাজারজাত করতে হলে নিয়ম মাফিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গঠিত কমিটির মাধ্যমে তা প্রকাশ করে বাজারজাত করার নিয়ম। কিš‘ নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে হর্টিকালচার বিভাগ ঐ আমের জাতকে বাজারজাত করার চেষ্টা করেছেন। অপরদিকে এলাকাবাসী জানান, ঐতিহাসিক গৌড়ের সোনামসজিদ মূলত নাবিজাত আম আশ্বিনা প্রধান এলাকা। জাতে আশ্বিনা হলেও অন্যান্য এলাকার আমের মতই কিন্তু কিছুটা টকমিষ্টি এবং এতে সুগারের পরিমাণ কম। যার কারণে এলাকার মানুষ অতি আগ্রহে এ আম খেয়ে থাকেন। আশ্বিনা আম মূলত আগে আশ্বিন মাসে পাকত বলে তার আম হয়েছিল আশ্বিনা। কিš‘ বর্তমানে অগ্রহায়ন মাসেও আশ্বিনা আম পাওয়া যায় ঐ এলাকায়। কিš‘ হর্টিকালচার বিভাগ এ লেট ভ্যারাইটির আমটিকে নিয়ে কোন গবেষণা করেনি আদৌ।

Read 3235 times Last modified on Sunday, 01 December 2013 10:17

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.