x 
Empty Product

গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহের মাধ্যমে নওগাঁর বাজারে আসছে আম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলার পোরশা উপজেলায় গোপালভোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়।

‘ফলের রাজা আম, আমের রাজা পোরশা’ স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি মৌসুমে জেলার পোরশায় গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে শুক্রবার বড় মাদরাসার পাশের আলহাজ্ব আব্দুস সামাদের আম বাগান থেকে আম নামানো শুরু হয়। আম নামানোর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা। আম অধিকতর নিরাপদ এবং এই আমকে সারা বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম, খাদ্য কর্মকর্তা শওকত জামিল প্রধান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই, পোরশা আম সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ শাহ্, সম্পাদক মোস্তফা শাহ, বাহারী বাজার অনলাইন আম ব্যাবসায়ী মাসুদ পারভেজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমরইচ উদ্দিনসহ আম ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রমতে, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে পোরশায় ৯ হাজার হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৯৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ২ হাজার ২শ হেক্টর, ধামইরহাটে ৬১৫ হেক্টর, মান্দায় ৪শ হেক্টর, নওগাঁ সদরে ৪শ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৩৬০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৩৪০ হেক্টর, রানীনগের ১৪৬ হেক্টর এবং আত্রাইয়ে ১১৬ হেক্টর। এ বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৪মে গোপালভোগ, ৩০মে খিরসাপাত/হিমসাগর, ১ জুন নাগ ফজলি, ৭ জুন ল্যাংড়া, ১৫ জুন ফজলী, ২২ জুন আম্রোপালি, ১ জুলাই আশ্বিনা আম গাছ থেকে পাড়া হবে। আম চাষিরা যাতে আমে কোনো প্রকার কেমিকেল প্রয়োগ করতে না পারে সেজন্য বাগানগুলোতে প্রশাসনের নজদারি বাড়ানো হয়েছে।

জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর উপজেলা এবং পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার আংশিক বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে খ্যাত। এলাকার জমিতে বছরের একটিমাত্র ফসল বৃষ্টি নির্ভর আমন ধান। পানি স্বল্পতার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এছাড়া ধানের আবাদে খরচও বেশি। অপরদিকে আম চাষে লাভ বেশি। ফলে ধান উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন আম চাষে ঝুঁকেছেন। এতে করে প্রতি বছর প্রায় ২-৩ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়ছে আম বাগান। আম্রোপালি, আশ্বিনা, খিরসা, মল্লিকা, হাড়িভাঙা ও ন্যাংড়াসহ কয়েকটা জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। এঁটেল মাটি হওয়ার কারণে এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। সুস্বাদু হওয়ায় আমের রাজা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে নওগাঁর আম।

আমচাষিরা বলছেন, এঁটেল মাটি হওয়ায় এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। এ এলাকার আমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। যখন আম পাকা শুরু হয় তখন একসঙ্গে বাজারে উঠতে শুরু করে। আর এ সুযোগে আম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আমের দাম কমিয়ে দেয়। এতে করে চাষিরা দাম কম পায়, কিন্তু ব্যবসায়ীরা লাভ ঠিকই পায়। আম মৌসুমে দামের ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন আম চাষিরা।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, এ উপজেলার আম স্বাদে-গন্ধে-মানে-মিষ্টতায় অতুলনীয়। নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষিদের বিভিন্ন সময় মতবিনিময় করেছি এবং আমরা পেরাশার আমকে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে রফতানি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

আমের ব্যাপক প্রচার ও বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য ‘উপজেলা কৃষি অফিস পোরশা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি ও ‘পোরশার আম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে আমের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে। আমের ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। নওগাঁর আমকে ব্র‌্যান্ডিং হিসেবে পরিচিত করার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

Published in ব্লগ

ফলের রাজা আম। কিন্তু আমের রাণী কে? হিমসাগর, ল্যাংড়া বা গোলাপখাস নয় বরং আমের রাণী হিসেবে মান দেয়া হয় নূরজাহানকে। গত বছর ভারী বর্ষণে এই আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এই বছরের আবহাওয়া এখনও এই আমের জন্য অনুকূল। কিন্তু কেন আমের রাণী বলা হয় এই নূরজাহানকে?

আফগানিস্তানের এই আম গাছের প্রজাতি ভারতের কেবল একটি স্থানেই পাওয়া যায়। তাও খুবই সামান্য পরিমাণে। মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলার কাত্থিওয়াড়া অঞ্চলেই একমাত্র দেখা মেলে নূরজাহানের। নূরজাহান আমের একটার দৈর্ঘ্য এক ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এর আঁটির ওজনই ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম। নূরজাহান আমের সংখ্যা এতোটাই সীমিত যে, গাছে থাকা অবস্থাতেই মানুষ এই আমের অগ্রিম বুকিং দেন। চাহিদা বাড়লে এক একটা আমের দাম ৫০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ইন্দোর থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে কাত্থিওয়াড়াতে এই প্রজাতির আম চাষের বিশেষজ্ঞ ইশাক মশুরী বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে বলে নূরজাহানের বেশি ফলন আশা করা হচ্ছে। নূরজাহান গাছগুলোতে জানুয়ারি মাস থেকেই মুকুল ধরতে শুরু করে এবং ফল জুনের শেষদিকে সম্পূর্ণ পেকে যায়। ইশাক মশুরী জানান, এবার এক একটা ফল গড়ে আড়াই কিলোগ্রামের কাছাকাছি ওজনের হতে পারে। আগে নূরজাহান আমের গড় ওজন হত সাড়ে তিন কেজি থেকে পৌনে চার কেজি হতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে মৌসুমি বৃষ্টিপাতে দেরি, অল্প বৃষ্টি, অতি বৃষ্টি ও আবহাওয়ার অন্যান্য কারণে নূরজাহানের ওজন ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। ইশাক মশুরী বলেন, এর আগে অনেকবারই কাত্থিওয়াড়ার বাইরে অনেক লোক নূরজাহানের কলম রোপণ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গাছ হয়নি। আমের এই বিশেষ প্রজাতি ঋতুর পরিবর্তনে অত্যধিক সংবেদনশীল। এর প্রচুর যত্ন প্রয়োজন। তিনি জানান যে, গত বছর শিলাবৃষ্টিতে নূরজাহানের মুকুল ঝরে যায়। এবার নূরজাহানের ভালো ফলন নিয়ে তারা আশাবাদী।

Published in ব্লগ
Page 1 of 24